ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ , ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নাশকতার অভিযোগ, আটক ১১

অনলাইন ডেস্ক
১ ঘন্টা আগে
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নাশকতার অভিযোগ, আটক ১১
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে ১১ জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে দাবি করেছে পুলিশ। শ্রমিকদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে তারা অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ ডিবির।

রোববার (১ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন।

তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। তবে শনিবার থেকে আন্দোলন ঘিরে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ডিবির এই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে থাকা ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতা বলে জানান মোহাম্মদ রাকিব খাঁন। তার দাবি, মিরপুরের পলাতক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা এসব কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করছেন। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের রাজধানীতে নিয়ে আসার দায়িত্বও তার ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

মিরপুরে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যান চলাচল স্বাভাবিক

ডিবির ডিসি আরও জানান, ওই এলাকায় প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, রোববার সকাল থেকেই ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে মিরপুর-১০, ১১ ও আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

এর আগে অবরোধ তুলে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে পুরো এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরে দুপুরে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার পর ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে বলে পুলিশের ধারণা।

তিনি বলেন, পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সড়ক অবরোধমুক্ত করা হয়েছে। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতেই আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হলেও কোনো লাঠিপেটা করা হয়নি। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় তাদের কোনো সদস্য আহত হননি।





কমেন্ট বক্স